What's new
Nirjonmela Desi Forum

Talk about the things that matter to you! Wanting to join the rest of our members? Feel free to sign up today and gain full access!

মেগাসিটির নির্জনতা by Topuu (1 Viewer)

Ochena_Manush

Mega Poster
Elite Leader
Joined
Aug 12, 2022
Threads
257
Messages
17,616
Credits
362,761
LittleRed Car
Automobile
Strawberry
Audio speakers
টং দোকানে বসে র চায়ের সাথে একটা বেনসন সিগারেট টানার যে ফিলিংস, তা বোঝার কেবল একটাই পন্থা আছে, নিজে টেস্ট করে দেখা। দোকানের পাশ দিয়ে চলে গেছে টানা রাজপথ। সাঁ সাঁ করে ছুটে যাচ্ছে দূরপাল্লার গাড়ি। তিন চাকার বাহন চলাচলের অনুমতি নেই এসব সড়কে। তবুও মাঝেমধ্যে দুই একটা রিকশা, সিএনজি আনমনে যেতে দেখা যায়। ব্যস্ত পৃথিবীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে রোদের তেজ। বেলা ১১ টা বেজে গেছে।


আধা খাওয়া সিগারেটটা ফেলে উঠে দাঁড়ায় রবিন। দোকানের বিল মিটিয়ে বাইক স্টার্ট দেয়। গন্তব্য মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া। দেশের প্রায় সবজেলাতেই দুই একবার করে যাওয়া হয়েছে রবিনের। ঘুরতে, পেশাগত কাজে বা দাওয়াতে, নানা কারণে। রবিনের যে পেশা তাতে ঘোরাঘুরিটা তার জন্য খুব একটা জরুরি না হলেও মাঝেমধ্যে স্পটে গিয়ে সরাসরি কাজ করাটা দরকারি হয়ে যায়। আজকের কাজটাও তেমনই। গত কিছুদিন ধরেই বিষয়টা নিয়ে কাজ করছে সে। পাটুরিয়াতে দারুণ একটা ক্লু আছে। ফোনে কথা বলে এই কার্যোদ্ধার হবে না। তাই ইয়ামাহা এফজেড ভার্সন টুর পিঠে চেপে রওনা দিয়েছে পাটুরিয়ার পথে।

সাভার পার হয়ে নবীনগর আসতেই চোখে পড়লো জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, তার স্মৃতি স্মারক। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সাতটি স্তম্ভ। স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা মনে হলেই বুকের মধ্যে একটা শিহরণ অনুভব করে রবিন। কত অশ্রু, কত ত্যাগ, কত মা বোনের সম্মানের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটা দেশ৷ অথচ রাজনীতির নামে কিছু লুটেরা সেই দেশটাকে প্রতিনিয়ত ;., করছে পৈশাচিকভাবে। যেন একটা মৃত হরিণশাবক নিয়ে কাড়াকাড়ি করছে কতগুলো হায়ে না৷ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পেরিয়ে গেলেও এখনো এই দেশে রাজনীতির কারণে প্রাণ যায় নিরীহ মানুষের।

মনের মধ্যে দিন দুনিয়ার নানা তত্ত্ব চিন্তা ভাবতে ভাবতে রবিন যখন পাটুরিয়া পৌঁছলো, তখন বাজে দুপুর ১ টা পনেরো। পাটুরিয়া ঘাটের সেই আগের জৌলুস আর নেই। পদ্মাসেতু হওয়ার পরে এই রোডে যাত্রীর চাপ কমে গেছে। ফলে লঞ্চ ঘাট, ফেরি ঘাট এখন প্রায় ফাকাই থাকে। এক সময়ের তুমুল ব্যস্ত ফেরিঘাট এখন কেমন যেন অস্তগামী সূর্যের মতো ম্লান।

রঞ্জিত যে ফেরিতে কাজ করে সেখানকার এক কর্মচারিকে জিজ্ঞেস করতেই খোঁজ পাওয়া গেলো তার। ফেরির হোটেলে একটা চা কফির দোকান চালায়। হোটেলে ঢুকে নেসক্যাফের স্টিকার লাগানো দোকানটার দিকে চোখ পড়তেই দেখা গেলো ছেলেটাকে। মোবাইলে যে ছবিটা আছে তার সাথে মিলিয়ে দেখলো রবিন৷ হ্যাঁ, এটাই। তেইশ চব্বিশ বছর বয়স। মুখে কয়েকদিনের না কামানো খোঁচা খোঁচা দাড়ি। দোকানের সামনে গিয়ে রবিন বলল- 'কেমন আছেন রঞ্জিত ভাই। আমি অরিত্রের বন্ধু। ধানমণ্ডির বীরেন রায়ের ছেলে অরিত্র। চিনতে পারছেন?'

রবিনের কথা শুনে চমকে উঠলো রঞ্জিত। এই লোক এখানে কি করে। সে যে এখানে কাজ করে, তাই বা জানলো কিভাবে? পুলিশের লোক না তো? কিন্তু সে তো পুলিশের সব ঝামেলা মিটিয়েই এসেছে। তাহলে আবার এই লোক কিজন্য এসেছে? কি চায় সে? কয়েক মূহুর্তের মধ্যেই আকাশ পাতাল ভেবে ফেললো রঞ্জিত। তারপর হতভম্ব মুখটাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বলল- 'কে আপনি? আপনারে তো চিনলাম না৷ আর আমি অরিত্র নামে কাউরে চিনি না। আপনি হয়তো অন্য কারো লগে আমারে গুলায় ফেলছেন।'

রঞ্জিতের কথা শুনে রবিন একটু হাসলো। এরকম সিচুয়েশন সে অনেক হ্যান্ডেল করেছে। অপরিচিত কেউ হঠাৎ কাউকে এভাবে নাম ধরে ডাকলে সে চমকে যায়। তার উপর যদি চোরের মন পুলিশ পুলিশ হয় তাহলো তো কথাই নেই। হাতের মোবাইল ফোন থেকে রঞ্জিতের ছবি বের করে বললো- 'এটা তো আপনিই তাইনা?' রবিনের মুখে তখন এক চিলতে হাসি। কাউকে জেরা করার সময় এই ছোট্ট হাসিটা অনেক বড় কাজে দেয়৷ প্রতিপক্ষের কাছে নিজেকে রহস্যময় করে তোলা যায়। আবার নিজেকে কনফিডেন্টও দেখায়। ফলে প্রতিপক্ষ কনফিউজড হয়ে যায়।

রঞ্জিতের অবস্থাও তাই। সে আর নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করলো না৷ কারণ ছবির লোকটা যে সেই তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ফলে এবার তার মুখে বিস্ময়ের পরিবর্তে হালকা ভয়ের রেখা ফুটে উঠলো। দোকান থেকে বেরিয়ে এলো সে। অনেকটা কাচুমাচু ভাব। বললো- 'স্যার, আমি তো এসপি সাবের লগে সবকিছু মিটমাট কইরাই আইছি। আমি আর জীবনেও ঢাকায় ঢুকব না৷ এই ছোড দোকানডা চালায়া সংসার চালাই। আর অরিত্র দাদার লগেও আমার কোনো যোগাযোগ নাই। তবুও আপনি কেন আইছেন বুঝতে পারতেছি না স্যার। কেস তো ডিশমিশ হয়া গেছে। এহন আবার আমারে দিয়া কি কাম?'

রঞ্জিতের কথা শুনে রবিন ওর কাঁধে হাত রাখে। চেয়ারে বসতে বলে। রঞ্জিত ভয়ে ভয়ে চেয়ারে বসে। রবিন আরেকটা চেয়ার টেনে বসে। একটা সিগারেট ধরায়। এখন তার মুখ গম্ভীর। মাথাভর্তি ঝাকড়া চুল, আগার দিকে হালকা কোকড়ানো। চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। মুখে ছোট করে ছাটা দাড়ি। গায়ে কালো টি শার্টের ওপর দিয়ে পরা একটা চেক শার্ট। বোতাম খোলা।

একরাশ ধোঁয়া ছেড়ে রঞ্জিতের দিকে তাকায় রবিন। বলে- 'তুমি যে কাজটা করছো, তা কি ঠিক হইছে তোমার?'
'কোন কাজটা স্যার?' রঞ্জিতের চোখে সংশয়।
'এইযে বীরেন বাবুর কেসটা ধামাচাপা দিতে তুমি যে কাজটা করলা।'
'এইটা তো স্যার আপনারাই করাইলেন আমারে দিয়া। আমার কি দোষ।'
'হুম'।
'ডিবির ফিরোজ স্যার আমারে যা কইতে কইছে, আমি তাই কইছি। আপনি কি স্যার ডিবির লোক নাকি সিআইডি? ফিরোজ স্যারকে চেনেন?'
'তোমার ফিরোজ স্যারকে আমি চিনি না৷ আর আমি কোনো গোয়েন্দা পুলিশ না৷ আমি সাংবাদিক। আমারে এতো ভয় পাওয়ার কিছু নাই।'

রবিন যেকোনো পরিস্থিতিতে শুরুতেই নিজের পরিচয় দেয় না৷ অপরজন তার বিষয়ে কী ভাবছে এটা সে দেখতে চায়। এবং এতে তার প্রতিপক্ষের বুদ্ধির তীক্ষ্ণতা আন্দাজ করতে সুবিধা হয়। আর সে এমনভাবে কথা শুরু করে যেন প্রতিপক্ষ বুঝতে পারে সে গভীর জলের মাছ। ফলে শুরুতেই প্রতিপক্ষ তাকে নিয়ে সন্দেহ সংশয়ে পড়ে যায়। রঞ্জিতের অবস্থাও তাই হয়েছে। তার ভেতরে যেটা নিয়ে ধুকধুকানি ছিল সে পেটের ভেতর থেকে সেটাই উগ্রে দিয়েছে। রবিনকে ধরে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগে গোয়েন্দা পুলিশের জেরার কবললে পড়তে পড়তে তার ভিতর ভীষণ ভয় ঢুকে গেছে। ফলে অপরিচিত কেউ তাকে কিছু জিজ্ঞেস করলেই তার মধ্যে গোয়েন্দা পুলিশের ভয় জেগে ওঠে।

রবিনের কথা শুনে রঞ্জিত খানিকটা আশ্বস্ত হয়। যাক অন্তত পুলিশের হাতে আবার পড়তে হয়নি। কিন্তু এই সাংবাদিক তার কাছে কি চায়? যখন কেস চলছিল তখনো কয়েকজন সাংবাদিক তাকে জেরা করেছিল। কিন্তু ফিরোজ স্যারের শিখিয়ে দেওয়া কথা ছাড়া একটা কথাও সে বলেনি কাউকে। বীরেন বাবুর কেস ডিসমিস হয়ে গেছে তা প্রায় বছর হতে চললো। এতদিন পর আবার সেই জিনিস নিয়ে এই সাংবাদিকদের আগ্রহ কেন? রঞ্জিতের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফুটে ওঠে।

রঞ্জিতের মুখোভাব লক্ষ্য করে মুখ স্বাভাবিক করে রবিন। অনেকটা ক্যাজুয়াল ভঙ্গিতে হাত পা নাড়ায়। যেন কোনো খোশ গল্প করার জন্য বসে আছে সে। এখন তাকে রঞ্জিতের সাথে বন্ধুর মতো মিশতে হবে। নাহলে ছেলেটা সহজ হতে পারবে না তার সাথে। কারো থেকে কথা বের করা যায় দুইভাবে। এক, ভয় দেখিয়ে, দুই, বন্ধু হয়ে। রঞ্জিতের ক্ষেত্রে ভয়ে কাজ হবে না৷ কারণ তার পেছনে বড় ব্যাকআপ আছে। তার সাথে দ্বিতীয় পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

'শোনো রঞ্জিত, আমি আসছি বীরেন বাবুর কেসের বিষয়ে একটু খোঁজ খবর নিতে। কি যে এক দায়ে পড়ছি। সাংবাদিকতা করা হল নিজের খেয়ে বোনের মোষ তাড়ানোর মতো। অফিস থেকে বলছে, কি আর করা। চাকরি করতে হলে তো সম্পাদকের কথা শোনাই লাগবে। আমি এত করে বললাম যে, এই কেসের রায় হয়ে গেছে। এখন আর খোঁজ নিয়া লাভ কি। আর রঞ্জিতের কাছে আমারে পাঠানোর কি দরকার। ওই পোলায় যা জানে তা তো সব মিডিয়ায় বলেই দিছে। তবুও সম্পাদক পাঠাইলো। তাই তোমার কাছে আসলাম। তুমি ভয় পাইও না বুঝছো। অফিসে গিয়া বলব রঞ্জিতের সাথে কথা বলে আসছি। ও যা জানে তাই বলছে। নতুন কোনো তথ্য নাই' একরাশ বিরক্তি আর শেষে হাসি নিয়ে কথাগুলো বললো রবিন। রঞ্জিত আশ্বস্ত হল যেন। তার মুখ থেকে চিন্তার বলিরেখা দূর হয়ে গেল।
 

Users who are viewing this thread

Back
Top