What's new
Nirjonmela Desi Forum

Talk about the things that matter to you! Wanting to join the rest of our members? Feel free to sign up today and gain full access!

কোভিড-১৯-এ রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা ও করণীয় (1 Viewer)

PMcRAD2.jpg


সন্দেহ নেই যে কোভিড-১৯ একটি জটিল রোগ। কখনো এই রোগের সংক্রমণে তেমন কোনো উপসর্গই থাকে না। আবার কখনো এটি মানুষকে টেনে নিয়ে যায় মৃত্যুর দোরগোড়ায়। সর্দি, কাশি, জ্বর, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অরুচি, ঘ্রাণ উবে যাওয়া এই রোগের সাধারণ লক্ষণ হলেও কোভিড কখনো কখনো গুরুতর সব জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি দেহের সব অঙ্গ বিকল করে দিতে পারে।

কোভিড-১৯-এর একটি অন্যতম জটিলতা হলো এটি শরীরের রক্তনালিতে বহমান রক্ত জমাট বাঁধাতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ক্লটিং বা এম্বোলিজম। আর তখনই শুরু হয়ে যায় তুলকালাম কাণ্ড। ফুসফুসের পালমোনারি ধমনিতে ক্লট বা রক্ত জমাট বাঁধলে ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ভয়ানক শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যেতে পারে। আবার হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিতে ক্লট হলে আকস্মিক হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। মস্তিষ্কের রক্তনালি আটকে হতে পারে স্ট্রোক। এ ছাড়া অন্ত্রনালি, কিডনি, হাত-পা এসব অঙ্গেরও রক্তনালি আটকে বিষম বিপত্তি সৃষ্টি হতে পারে।

কেন করোনাভাইরাস এভাবে রক্ত জমাট বাঁধিয়ে রক্তনালি আটকে দেয়—এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা চলছে। তবে প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করা এখনো পুরোটা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ধারণা করা হয়, ভাইরাস সৃষ্ট প্রদাহে খুদে রক্তনালি বা কৌশিক জালিকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আমাদের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা যখন উদ্দীপ্ত হয় তখন এমন কিছু উপাদান তৈরি হয় যা রক্ত জমাট বাঁধতে ইন্ধন জোগায়।

রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি সবার সমান নয়। কারও কারও ঝুঁকি অনেক বেশি। বিশেষত যাঁরা বয়স্ক, স্থূল, ডায়াবেটিস, কিডনি বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত তাঁদের রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বেশি। ধূমপানের কারণে রক্তনালি এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত থাকে। তার ওপর করোনাভাইরাসের আক্রমণ হলে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া আরও শাণিত হতে পারে। এ ছাড়া জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়িসহ কিছু ওষুধ রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে উসকে দিতে পারে।

রক্ত জমাট বাঁধা রোধে কী করণীয়, তা জানা জরুরি। এ ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হলো:

• নিজেকে সচল রাখা। দীর্ঘ সময় শুয়ে-বসে থাকলে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। সে জন্য কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলেও নিজেকে সচল রাখা জরুরি। হাসপাতালে ভর্তি গুরুতর রোগীরও পায়ের ব্যায়াম ও শরীরের নানা ফিজিওথেরাপি করে রক্ত জমাট বাঁধাকে প্রতিহত করতে হবে।

• ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।

• ধূমপান বর্জন করা।

• চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে রক্ত জমাট বাঁধায় সহায়ক ওষুধ বন্ধ রাখা। বিশেষত জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি, হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ইত্যাদি।

• পর্যাপ্ত পানি পান করা। পানিশূন্যতা রক্ত জমাট বাঁধার নিয়ামক।

• রক্ত পরীক্ষা করে ঝুঁকি নির্ণয় করা যায়। রক্তে ডি-ডাইমার নামক একটি উপাদান বেড়ে গেলে বুঝতে হবে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া উদ্দীপ্ত হচ্ছে। এমনটি হলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে রক্ত পাতলা করার (ব্লাড থিনার) ওষুধ শুরু করতে হবে। তবে কখনোই নিজে নিজে এসব ওষুধ সেবন করবেন না। কারণ, এ ধরনের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কখন কোন পরিস্থিতিতে রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করতে হবে, তার জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা আছে। চিকিৎসকেরা সেটা অনুসরণ করে শুরু করবেন।

সবচেয়ে বড় কথা হলো করোনাভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে খুব সহজ কিছু নিয়ম মেনে চললেই হয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরিধান করা, নিয়মিত হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে আপনি এই ভাইরাস থেকে নিজেকে সুরক্ষা করতে পারবেন। তখন এসব মারাত্মক দুশ্চিন্তা থেকেও রেহাই পাবেন।

* লে. কর্নেল নাসির উদ্দিন আহমদ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), ঢাকা।
 

Users who are viewing this thread

Back
Top