What's new
Nirjonmela Desi Forum

Talk about the things that matter to you! Wanting to join the rest of our members? Feel free to sign up today and gain full access!

পবিত্র রমজানে ঐতিহাসিক মক্কা বিজয় (1 Viewer)

409D3EF.jpg


মহানবী (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় আগমনের পর দ্বিতীয় হিজরিতে কুরাইশরা মদিনা আক্রমণ করলে বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এতে চরমভাবে পরাজিত হলেও পঞ্চম হিজরি সনের ১৫ শাওয়াল শনিবার তারা প্রায় পাঁচ শ কিলোমিটার দূরে এসে আবার মদিনা আক্রমণ করে। সংঘটিত হয় ঐতিহাসিক ওহুদের যুদ্ধ। ষষ্ঠ হিজরির জিলকদ মাসে নবীজি (সা.) ওমরাহর উদ্দেশ্যে মক্কা যাত্রা করলেন। কুরাইশরা বাধা দিলে হজরত (সা.) হুদায়বিয়া নামক জায়গায় অবস্থান করেন। এখানেই সম্পাদিত হয় ইতিহাসে ‘হুদায়বিয়ার সন্ধি’ নামে বিখ্যাত বিশ্বের প্রথম লিখিত সন্ধি চুক্তি।

মক্কার ‘বনু খোজা’ সম্প্রদায় হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর সঙ্গে এবং বনু বকর সম্প্রদায় কুরাইশদের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি করে। এ দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে পূর্বশত্রুতা ছিল। কুরাইশদের প্ররোচনায় ‘বনু বকর’ গোত্রের লোকেরা ‘ওয়াতির’–এর নিভৃত পল্লিতে রাতের অন্ধকারে অতর্কিত হামলা করে অসহায় নারী, শিশুসহ নির্বিচার হত্যা ও লুণ্ঠন করে। প্রাণভয়ে কাবায় আশ্রয় নেওয়া নিরীহ মানুষকেও তারা হত্যা করে। এ ঘটনার প্রতিকারের জন্য খোজা সম্প্রদায় মদিনার মিত্র মুসলমানদের সহযোগিতা চায়। হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর প্রতিকারের জন্য দূত মারফত মক্কার কুরাইশ নেতাদের জানালেন, তোমরা বনি খোজা গোত্রকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাও, নয়তো বনু বকর গোত্রের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি বাতিল করো, না হলে হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে হেতু হুদায়বিয়া চুক্তি বাতিল হয়েছে বলে পরিগণিত হবে। কুরাইশ নেতারা তৃতীয় পন্থাই গ্রহণ করল।

ইসলাম ও বিশ্বমানবতার কেন্দ্রভূমি মক্কা পঙ্কিলতামুক্ত করার জন্য অষ্টম হিজরিতে বিশ্বনবী নীরব আয়োজন করলেন। তিনি ধ্বংসযজ্ঞ চান না, তিনি কুরাইশদের রক্ষা করতে চান। তিনি চান প্রেম ও ভালোবাসা দিয়ে জয় করতে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) ১০ রমজান ১০ হাজার সাহাবিসহ মদিনা থেকে মক্কার উদ্দেশে যাত্রা করলেন। মক্কার উপকণ্ঠে এসে ‘মারাউজ জাহরান’ নামক গিরি উপত্যকায় তাঁবু স্থাপন করলেন। ১৯ রমজান রাতে আবু সুফিয়ান হাকিম ইবনে নিজাম ও বুদাইলকে সঙ্গে নিয়ে অনুসন্ধানে বের হলে হজরত উমর (রা.)–এর নেতৃত্বে টহলরত ছদ্মবেশী গেরিলা সাহাবি দলের হাতে বন্দী হয়ে নবীজি (সা.)–এর কাছে আনীত হন। দীর্ঘ ২১ বছরের নিষ্ঠুরতার পুরোহিত আবু সুফিয়ানকে রহমতের নবী (সা.) প্রেম–ভালোবাসার দীক্ষা দিলেন। পাষাণহৃদয় দয়ার সাগরে স্নাত হলো। তিনি ইমান আনলেন।

আল্লাহর হাবিব (সা.) মক্কা জয়ের আগেই মক্কাবাসীর মন জয় করাকে বড় বিজয় মনে করলেন। এ সময় নবীজির চাচা হজরত আব্বাস (রা.) যিনি কৌশলগত কারণে মক্কাবাসীর কাছে তাঁর ইসলাম গ্রহণ গোপন রেখেছিলেন, তিনিও তা প্রকাশ করলেন। এ উভয় কুরাইশ নেতাকে নবীজি (সা.) শান্তির পয়গাম ঘোষণার জন্য প্রভাতে মক্কায় পাঠালেন এবং ঘোষণা দিতে বললেন, ‘যারা কাবাগৃহে আশ্রয় নেবে তারা নিরাপদ, যারা যারা আবু সুফিয়ানের বাড়িতে আশ্রয় নেবে বা তার নাম বলবে তারা নিরাপদ, যারা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করবে, তারাও নিরাপদ।’

১৯ রমজান সকালে নবীজি (সা.) সাহাবায়ে কিরামের বিভিন্ন দলকে মক্কার বিভিন্ন দিক থেকে প্রবেশের নির্দেশ দিলেন এবং বললেন, ‘কাউকে আক্রমণ করবে না।’ ইতিপূর্বে ‘মুতা’ অভিযানেও তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, কোনো সাধু–সন্ন্যাসীকে হত্যা করবে না, বালক–বালিকা ও শিশুদের হত্যা করবে না, নারীদের হত্যা করবে না, বৃক্ষ নিধন করবে না, শস্যক্ষেত্র ধ্বংস করবে না, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করবে না এবং আত্মসপর্ণনকারীকে আঘাত করবে না।

ক্রীতদাস উসামা ইবনে জায়েদের সঙ্গে উটে চড়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) অবনত মস্তকে সবার শেষে মক্কায় প্রবেশ করলেন। হজরত মক্কাবাসীকে নিয়ে একটি সভা করলেন। তিনি ভাষণে সাম্য, মৈত্রী ও একতার কথা বললেন, ‘হে কুরাইশগণ! অতীতের সকল ভ্রান্ত ধারণা মন থেকে মুছে ফেল, কৌলীন্যের গর্ব ভুলে যাও, সকলে এক হও। সকল মানুষ সমান—এ কথা বিশ্বাস করো।’

● মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী

যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম
 
বিনা রক্তপাতে জয় ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
 

Users who are viewing this thread

Back
Top